Image description

দেশের মানুষের গড় আয়ু আগের তুলনায় ছয় মাস কমেছে। একই সঙ্গে বেড়েছে মৃত্যু হারও। বর্তমানে দেশে একজন মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু ৭২ দশমিক ৩ বছর। এর আগের জরিপ অনুযায়ী, মানুষের গড় আয়ু ছিল ৭২ দশমিক ৮ বছর। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিক্স-২০২১’ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। 

সোমবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ভবনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বেতে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম ও পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন।


সারা দেশে দুই হাজার ১২ জনের ওপর চালানো হয় এই জরিপ। বিবিএস সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, করোনা মহামারির কারণে প্রত্যাশিত গড় আয়ু কিছুটা কমেছে বলে তাদের মনে হয়েছে । তবে পরিসংখ্যাতগত দিক থেকে এটাকে কমা বলা যাবে না।  

জরিপ প্রকল্পের পরিচালক মো. আলমগীর হোসেন জানান, করোনার সময় মৃত্যু বেড়েছে আড়াই গুণ। ফলে গড় আয়ু কিছুটা কমেছে। ৪০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের মৃত্যুর হার বেশি।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী , পুরুষের তুলনায় নারীর গড় আয়ু বেশি। আর গড় আয়ু বেশি কমেছে পুরুষদের। ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী দেশের পুরুষ বাঁচে গড়ে ৭০ দশমিক ৬ বছর, নারীর গড় আয়ু ৭৪ দশমিক ১ বছর। ২০২০ সালে পুরুষের গড় আয়ু ছিল ৭১ দশমিক ২ বছর। আর নারীর ছিল ৭৪ দশমিক ৫ বছর। অর্থাৎ পুরুষের গড় আয়ু কমেছে ০ দশমিক ৬ বছর, নারীর কমেছে ০ দশমিক ৪ বছর।


গড় আয়ুর কমার পাশাপাশি বেড়েছে মানুষের মৃত্যু হার। এক্ষেত্রে  মৃত্যুহার প্রতি হাজারে ৫ দশমিক ৭ জন। ২০২০ সালে যা ছিল ৫ দশমিক ১ জন। এসময় মৃত্যু শহরের তুলনায় গ্রামে বেশি হয়েছে।  ২০২১ সালে গ্রামে হাজারে ৬ জন, শহরে ৪ দশমিক ৮ জন। প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনায়  সরকারি হিসেবে  মারা গেছে ২৯ হাজার ৪৪৬ জন। এই মৃত্যুর সিংহভাগই হয়েছে ২০২০ ও ২০২১ সালে।

বেড়েছে এক বছরের নিচের বয়সী শিশু মৃত্যুহার । প্রতিবেদন অনুযায়ি, প্রতি হাজারে মোট মৃত্যু ২২ জন, যা ২০২০ ছিল ২১ জন। এর মধ্যে পুরুষ প্রতি হাজারে ২৩ জন ও নারী ২১ জন।

মৃত্যুহারের পাশাপাশি দেশে জন্মহার বেড়েছে। জরিপ প্রতিবেদন অনুযায়ি, ২০২১ সালে প্রতিহাজারে জন্মহার ১৮ দশমিক ৮ , যা ২০২০ সালে ছিল ১৮ দশমিক ১। জন্মহার শহরের তুলনায় গ্রামে বেশি। গ্রামে ১৯ দশমিক ৫ আর শহরে এই হার ১৬ দশমিক ৪।  

জরিপকালে শহর থেকে গ্রামে স্থানন্তর বেড়েছে। স্থানান্তরের ক্ষেত্রে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহর থেকে গ্রামে স্থানন্তর হয়েছে হাজারে ৮ জন, যা ২০২০ সালে ছিল ৪ দশমিক ৭ জন। আর শহরের মধ্যে স্থানান্তর ৯৫ দশমিক ১ জন, যা ২০২০ সালে ছিল ৭৭ দশমিক ৮ জন। বহির্গমন হার প্রতিহাজারে ৫৫ দশমিক ৯ জন, যা ২০২০ সালে ছিল ৭০ দশমিক ৩ জন।

প্রতিবেদনে  বলা হয়েছে, জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারকারীর হার বেড়েছে। ২০২১ সালের জরিপে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারকারীর হার ৬৫ দশমিক ৬ শতাংশে, ২০২০ সালের জরিপে ছিল ৬৩ দশমিক ৯ শতাংশ। এক্ষেত্রে দেখা যায় গ্রাম ও শহর উভয় ক্ষেত্রেই বেড়েছে। গ্রামে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করে ৬৫ দশমিক ৭ শতাংশ, যা আগের বছর ছিল ৬৩ দশমিক ১ শতাংশ। শহরে ব্যবহার  ৬৫ শতাংশ, যা আগের জরিপে ছিল ৬৪ দশমিক ৭ শতাংশ। এছাড়া জন্ম নিয়ন্ত্রণের আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে৬৫ দশমিক ৬ শতাংশ। সনাতন পদ্ধতি ব্যবহার করে এক শতাংশ দম্পত্তি।

পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জরিপ। তাই এটি আগামীতে প্রকল্পের আওতায় না করে বিবিএস এর রাজস্ব খাত থেকে নিয়মিতভাবে পরিচালিত করা হবে। এ প্রতিবেদনের মাধ্যমে দেশের হারির খবর উঠে এসেছে।


পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড.শামসুল আলম বলেন, এ জরিপের মাধ্যমে এসডিজির ২৬টি ইন্ডিকেটরের তথ্য পাওয়া যাবে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জরিপ। এখানে দেখা গেছে জনসংখ্যা বৃদ্ধিও হার বেশি। যেটি উদ্বেগজনক। এক্ষেত্রে সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি বলেন, শহর থেকে মানুষ গ্রামে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো এখন গ্রামে কর্মসংস্থান বেড়েছে। কৃষির বহুমুখীকরণ হয়েছে। কৃষিজ কাজ বেড়েছে। তাই শহরের চেয়ে গ্রামে কাজ বেশি। ফলে মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামে যাচ্ছেন।

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন বলেন, চলতি বছরের জুনে ২০২২ সালের প্রতিবেদন প্রকাশ করে হবে। তখন ব্যবধান নির্ণয় করা সহজ হবে।