‘আমি আওয়ামী লীগ নেতা। তোরে ৩-৪টা মামলায় ঢুকায় দিমু, দেশে আয়!’ মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে এভাবেই এক সৌদি প্রবাসীকে মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক শাকিল ঢালীর বিরুদ্ধে। হুমকির শিকার প্রবাসী লাভলু রাঢ়ী একই গ্রামের বাসিন্দা।
মোবাইল ফোনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আমার ব্যবহৃত ইমু নম্বরে ফোন করে এই হুমকি প্রদান করেন শাকিল।’
লাভলু রাঢ়ীর অভিযোগ, এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে তার স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম লাকিকে মারধর করে তার গলায় থাকা ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইনও ছিনিয়ে নেন ওই ছাত্রলীগ নেতার বড় ভাই সেলিম ঢালী। এ ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম লাকি বাদী হয়ে টঙ্গিবাড়ী থানায় অভিযোগও করেছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে প্রবাসী লাভলু রাঢ়ী মোবাইল ফোনে বলেন, ‘সৌদির জেদ্দায় আমি ও শাকিল ঢালীর দুলাভাই আওলাদ হোসেন পাশাপাশি বাসায় থাকি। আমরা দুজন দুজনের বাসায় যাতায়াত করতাম। প্রায় ৫ মাস আগে শাকিলের দুলাভাই দেলোয়ার হোসেন বলেন, তার বাসা হতে ১০ হাজার রিয়েল হারানো গেছে। আর এ জন্য তিনি আমার সঙ্গে আরও ৩ জনকে দায়ী করেন। এ সময় আমি বলি, যদি আমরা আপনার টাকা নিয়ে থাকি তবে আপনি আমাদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দেন। পুলিশ এসে তদন্ত করে দেখুক। কিন্তু তিনি পুলিশে না গিয়ে আমার বাসার মালপত্র তার বাসায় আটকে রাখেন।’
প্রবাসীর স্ত্রীর রাবেয়া ইসলাম লাকি বলেন, বিষয়টি লাভলু আমাদের জানালে মঙ্গলবার আমি আর আমার দুই ভাশুর শাকিল ঢালীদের বাসায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে যাই। ক্ষুব্ধ হয়ে শাকিল ঢালীর বড় ভাই সেলিম ঢালী আমাকে মেরে রক্তাক্ত করেন। পরে গলায় চাপ দিয়ে ধরে আমার ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন নিয়ে যান। আমার ভাশুররা আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।
এ ব্যাপারে টঙ্গিবাড়ী থানার এসআই আল মামুন বলেন, বিদেশের ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হওয়ায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ওসি রাজিব খান বলেন, অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।