সংবাদ >> জাতীয়
বিনামূল্যে পাঠ্যবই উৎসব নিয়ে শঙ্কা
৯ কোটি বই ছাপা হয়নি
07 Dec, 2012
আগামী ১ জানুয়ারি বিনামূল্যের পাঠ্যবই বিতরণ উৎসব। এ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সাজ সাজ রব চলছে। কিন্তু মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের আট কোটি এবং প্রাথমিক স্তরের প্রায় দেড় কোটির মতো বই এখনো ছাপা হয়নি বলে জানিয়েছেন মুদ্রণ শিল্প সমিতি, বাঁধাই মালিক সমিতি এবং পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির নেতৃবৃন্দ। এ দিকে গত ৩০ নভেম্বরের মধ্যেই সব উপজেলায় বই পৌঁছার নির্দেশনা থাকলেও গতকাল ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ জেলায় এখনো সব বই পৌঁছেনি। কারণ হিসেবে বই মুদ্রণকারীরা বলছেন, এখনো ৬৫ থেকে ৭০ ভাগ বই ছাপাই হয়নি। এ হিসাবে এখনেও ৯ কোটির অধিক বই মুদ্রণ বাকি রয়েছে। বছরের অবশিষ্ট দিনগুলোতে এসব বই ছাপা, বাঁধাই ও বিতরণ সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে ফঙ্কা ও সংশয় দেখা দিয়েছে। ফলে ১ জানুয়ারি সারা দেশে ‘বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরন উৎসব’ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
এ দিকে বিনামূল্যের পাঠ্যবই নিয়ে এ অনিশ্চয়তা কাটাতে ব্যতিক্রমী এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুদ্রণ শিল্প সমিতি, বাঁধাই মালিক সমিতি এবং পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি। গতকাল
বৃহস্পতিবার এ তিন সংগঠনের একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী দুই সপ্তাহ তারা নিজেদের সব ধরণের ছাপা ও বাঁধাই কাজ স্থগিত রাখবেন। এর পরিবর্তে বিনামূল্যের পাঠ্যবইয়ের কাজ শেষ করা হবে দেশের ও জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের ছাপাখানায় কেবল সরকারি বই-ই ছাপা হবে। একইভাবে বাঁধাইখানাগুলোও ব্যস্ত থাকবে সরকারি ওই বিনামূল্যের বই নিয়ে।
বাংলাবাজারে পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির কার্যালয়ে ত্রিপীয় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম শাহ আলম ও পুস্তক প্রকাশক সমিতির সভাপতি আলমগীর সিকদার লোটন নয়া দিগন্তকে জানান, মূলত সরকারকে সহায়তা ও ১ জানুয়ারি বই দেয়ার প্রতিশ্র“তি রা এবং শিার্থীদের নতুন বই পাওয়ার আনন্দ বজায় রাখার স্বার্থে নিজেদের তি করেও তারা এ সিদ্ধান্ত নিলেন।
আ ফ ম শাহ আলম বলেন, এনসিটিবি থেকে তাদেরকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করতে বার বার অনুরোধ করা হচ্ছিল। কিন্তু এবার বই বিলম্বের জন্য খোদ এনসিটিবিই দায়ী। কেননা তারা সময়মতো বইয়ের পজেটিভ দিতে পারেনি। এর বাইরে আরো অনেক সমস্যা রয়েছে। যে কারণে বিলম্ব ঘটেছে।
প্রকাশক সমিতির সিদ্ধান্ত সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র পাল বলেন, দেশের স্বার্থে খুবই ভালো সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ নিলেন প্রকাশকেরা। এ সিদ্ধান্তের জন্য তারা অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য। তিনি জানান, নানা কারণে এখন পর্যন্ত মাত্র ৭৩ ভাগ বই পৌঁছেছে উপজেলাপর্যায়ে। বাকি বইগুলো নিয়ে আমরা চিন্তিত ছিলাম।
এবার সরকার ২৭ কোটিরও বেশি বিনামূল্যের পাঠ্যবই বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয়। এরমধ্যে প্রাথমিক স্তরের রয়েছে ১০ কোটি ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার ৭৩টি, মাধ্যমিক স্তরের সাড়ে ১১ কোটি, ইবতেদায়ি ও দাখিল স্তরের প্রায় চার কোটি। বাকি বইগুলো কারিগরি ও মাদরাসার ভোকেশনাল এবং গ্রামার-ব্যাকরণের মতো বই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এনসিটিবি এবারো মুদ্রণকারীদের সময়মতো বইয়ের পজেটিভ ও কাগজ দেয়নি। এর বাইরে টেন্ডার ও কার্যাদেশ দিতেও দেরি করে। এর পেছনে অবশ্য বই লিখতে বিলম্বকে দায়ী করেছে এনসিটিবি। জানতে চাইলে এনসিটিবি সদস্য অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র পাল বলেন, এবার কেবল প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরেই মোট ১১৮টি বই নতুন দেয়া হচ্ছে। এসব কাজ করতে সময়ের বাস্তবতা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, নয়া শিানীতির আলোকে আগামী বছর নতুন কারিকুলামের পাঠ্যবই তৈরি হচ্ছে। প্রথম থেকে একাদশ শ্রেণীর শিার্থীরা যেসব নতুন বই পাচ্ছে তার সংখ্যা মোট ১৮০টি। এরমধ্যে প্রথম থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত সাধারণ শিায় বা স্কুলে রয়েছে ১১৮টি, মাদরাসার রয়েছে ২৯টি আর উচ্চ মাধ্যমিকে রয়েছে ৩৩টি।
উৎসঃ নয়া দিগন্ত
পাঠক মন্তব্য
সকল মন্তব্য দেখার জন্য ক্লিক করুন