Image description
ইফতারের সময়ও সড়কের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করে থাকেন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। গতকাল রাজধানীর দৈনিক বাংলা মোড় থেকে তোলা।

পবিত্র রমজানে প্রতিদিন কাজ শেষে অফিস বা কর্মস্থল থেকে নগরবাসী যখন নিজ নিজ গন্তব্যের দিকে ছোটেন, তখন সড়কে যানবাহন চলাচল সুশৃঙ্খল রাখতে ব্যস্ত থাকেন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। কোন ফাঁকে যে ইফতারের সময় ঘনিয়ে আসে, টেরও পান না অনেকে। এর মধ্যেই তড়িঘড়ি পানি বা শরবত পান করে ইফতার শুরু করেন তাঁরা।

গতকাল বুধবার রোজার চতুর্থ দিনে ইফতারের আগে ও পরে রাজধানীর গুলশান, দৈনিক বাংলা মোড়, বনানী ও কাকলী এলাকায় গিয়ে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের এমন ব্যস্ততা দেখা যায়। দায়িত্ব পালন করতে করতেই অনেকে ইফতার সেরে নেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিকেল ৩টার পর থেকে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামায় সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। বিকেল  ৫টার পর অনেক সড়কে তৈরি হয় যানজট। ঢিমেতেতালায় চলছিল যানবাহন। দেখা যায়, ইফতারির জন্য পানির বোতল নিয়ে সড়কে দাঁড়িয়ে যানবাহন চলাচলে সংকেত দিচ্ছেন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা।

রাজধানীর গুলশান-১ পুলিশ প্লাজার সামনের মোড়ে ইফতারের আগমুহূর্তে কথা হয় ট্রাফিক পুলিশ সার্জেন্ট আনিছুর রহমানের সঙ্গে। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে সড়কেই ইফতার সেরে নিতে হয় অনেক ট্রাফিক পুলিশকে। রাস্তায় যানবাহনের চাপ সামলানোর কারণে বেশির ভাগ সময় কয়েক মিনিট বসার সুযোগও মেলে না।

দৈনিক বাংলা মোড়ে দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক মো. মুরাদ কালের কণ্ঠকে বলেন,  ইফতারের সময় প্রচুর চাপ থাকে। কারণ মানুষ এ সময় ব্যাকুল থাকেকখন বাসায় ফিরবে। এ সময় আমরা ধৈর্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে থাকি। যখন আজান শুরু হয়, তখন হাতে থাকা এক বোতল পানি দিয়ে ইফতার শুরু করেন দায়িত্বরত অনেকে।

তিনি বলেন, প্রতিবার রমজান মাসে ট্রাফিক পুলিশকে এভাবেই দায়িত্ব পালন করতে হয়। এতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। প্রায় একই কথা বলেন সেখানকার দায়িত্বরত সার্জেন্ট শেখর ও কনস্টেবল আনোয়ার।

তবে পুলিশের দায়িত্বরত দুজন কর্মকর্তা বলেন, সড়কে দাঁড়িয়ে প্রতিবছর ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা ইফতার করেন। আমাদের দায়িত্ব এ সময় মানুষ যেন স্বস্তিতে ঘরে ফিরতে পারে। বছরের পর বছর ধরে রাস্তায় এভাবে দায়িত্ব পালন করতে করতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে ট্রাফিক পুলিশ। তবে এবার যেসব শিক্ষার্থী ট্রাফিক পুলিশকে সহযোগিতা করছেন, রাস্তায় দাঁড়িয়ে ইফতার করাটা তাঁদের জন্য একটা নতুন অভিজ্ঞতা।

গুলশানে দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক কনস্টেবল আবু হানিফা কালের কণ্ঠকে বলেন, পবিত্র রমজান, রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ের মধ্যে আমরা দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাই, যাতে নগরবাসী স্বস্তিতে ঘরে ফিরতে পারেন।

কাকলী ক্রসিংয়ে দায়িত্ব পালনকারী মো. জুয়েল বলেন, প্রথমে পানি ও খেজুর দিয়ে ইফতার করি। ইফতারের পর গাড়ির চাপ কমে গেলে তখন একজন একজন করে পাশে থাকা পুলিশ বক্সে গিয়ে সামান্য কিছু মুড়ি, ছোলা, বেগুনি, পেঁয়াজুসহ অন্যান্য খাবার খাই। এরপর আবার  দ্রুত সবাই সড়কে চলে আসি।

এই ক্রসিংয়ে যানজটে আটকে থাকা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী আহম্মেদ আলী ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে বলেন, রোদ, বৃষ্টি, ঝড়, শীত, ধুলাবালি, ধোঁয়া, উচ্চ শব্দ ট্রাফিক পুলিশের নিত্যসঙ্গী। পবিত্র রমজান মাসে সে কষ্ট আরো বেশি। রোজা রেখে দিনভর রাজধানীর পথে পথে দায়িত্ব পালন করতে হয় তাঁদের। ইফতার সেরে নিতে হয় দাঁড়িয়েই। একই সঙ্গে চলে যানবাহনের চাপ ও গতি সামলানোর গুরুদায়িত্ব।