বছরের শুরুটায় তালগোল পাকিয়ে ফেলছে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলো। হার দিয়ে ২০২৩ সাল শুরু করেছে পিএসজি ও টটেনহাম। এই তালিকায় সবশেষ সংযোজন লিভারপুলের নাম। সোমবার রাতে ব্রেন্টফোর্ডের মাঠে ৩-১ গোলে হেরেছে অলরেডরা। দলের হার পোড়াচ্ছে ইয়ুর্গেন ক্লপকে। লিভারপুল কোচ কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন শিষ্যদের। সঙ্গে রেফারিকেও। রেফারিং নিয়ে চরম বিরক্ত তিনি। ব্রেন্টফোর্ড ম্যাচে রেফারির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তুলেছেন এই জার্মান।
প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচটিতে ৭৩ শতাংশ সময় বল দখলে রাখে লিভারপুল। কিন্তু আক্রমণে পিছিয়ে ছিল ব্রেন্টফোর্ডের চেয়ে। এই সুযোগে প্রথমার্ধেই ২ গোলের লিড নেয় স্বাগতিকরা। ম্যাচের ঊনবিংশ মিনিটে ডিফেন্ডার ইব্রাহিম কোনাতে আত্মঘাতী হলে প্রথম গোল হজম করে লিভারপুল। ৪২ মিনিটে ব্রেন্টফোর্ডের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইয়োন উইসা। এর কয়েক সেকেন্ড আগে আরও একবার বল জালে পাঠিয়েছিলেন তিনি। সেটা বাতিল হয়ে যায় অফসাইডের কারণে।
দ্বিতীয়ার্ধের চতুর্থ মিনিটে অ্যালেক্স অক্সলেড-চেম্বারলিনের গোলে ম্যাচে ফেরার আভাস দিয়েছিল লিভারপুল। কিন্তু সেটা আর সম্ভব হয়নি। উল্টো ৮৪ মিনিটে আরও একটি গোলে দীর্ঘ ৮৫ বছরে প্রথমবার অলরেডদের হারানোর স্বাদ পায় ব্রেন্টফোর্ড। শেষের ওই গোলটি নিয়েই বড় আপত্তি ক্লপের। গোলটি করেন ব্রায়ান এমবেউমো। লিভারপুল কোচের দাবি, জালের ঠিকানা খুঁজে নেওয়ার আগে কোনাতেকে ফাউল করেছেন এমবেউমো। টিভি রিপ্লেও ক্লপের দাবির সঙ্গে মিলে যায়।
রেফারি সেটাকে আমলেই নেননি। গোলের আগ মুহূর্তে এমবেউমোর সঙ্গে সংঘর্ষে কোনাতে পড়ে গেলেও ফাউলের বাঁশি ফুঁকাননি তিনি। বিষয়টা সামনে টেনে ক্লপ বলেছেন, ‘ব্রেন্টফোর্ড অবশ্যই ভালো খেলেছে। তবে তাদের তৃতীয় গোলকে শ্রদ্ধা জানাতে পারছি না। আমি বলছি না, রেফারিকে আমাদের পক্ষে বাঁশি বাজাতে হবে। কিন্তু ফাউল মানে ফাউল, কাউকে আটকে রাখা মানে আটকে রাখা, কাউকে ধাক্কা দেওয়া মানে ধাক্কাই দেওয়া।’
ক্লপ যোগ করেন, ‘(ম্যাচ অফিসিয়ালদের) সঙ্গে কথা হয়েছে। আমি যদি আমার মাইক্রোওয়েভের সঙ্গে কথা বলি, তখন যেমন কোনো সাড়া পাওয়া যায় না, এখানেও ব্যাপারটি সে রকমই। সবসময় এটা এ রকম। মৌসুম শুরুর আগে তারা আমাদের জানিয়ে রাখলেন যে জটলার মধ্যে ফুটবলারদের সাবধান থাকতে হবে, কারণ রেফারির সতর্ক দৃষ্টি থাকবে সেখানে। কিন্তু দেখতেই পাচ্ছেন, এই ম্যাচগুলোতে সবকিছু করতে দেওয়া হচ্ছে এবং তারা এটার ফায়দা নিচ্ছে।’
ক্লপের সমালোচনা থেকে রেহাই পায়নি শিষ্যরা। দলের হারে ছেলেদেরও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন লিভারপুল বস। তিনি বলেছেন, ‘আমরা যখন প্রথম গোল হজম করলাম, ততক্ষণে আমাদের ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। গোলমুখে থেকেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি ডারউইন (নুনেস) ও কস্টাস (সিমিকাস)। অবশ্যই সমালোচনার অনেক জায়গা আছে।’