টানা তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় থেকেও চার চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দলীয় সূত্র বলছে, আসন্ন সিলেট, বরিশাল, খুলনা ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি, বিএনপির আন্দোলন মোকাবিলা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ ও সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান করা নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে আওয়ামী লীগ। এ জন্য ভেতরে ভেতরে চিন্তিত রয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি।
ইতিমধ্যে আসন্ন চার সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করতে বিভিন্ন কৌশল খুঁজছে দলটি। পাশাপাশি মার্কিন ভিসানীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিবৃতি অনুযায়ী স্যাংশন যাতে না আসে সেই পথও খুঁজছে দলটি। এ ছাড়া বিএনপি সরকার পতনসহ ১০ দফা দাবিতে লাগাতার কর্মসূচি দিয়ে আসছে। তারা সরকার পতন ছাড়া ঘরে না ফেরারও ঘোষণা দিয়েছে। ফলে তাদের এই আন্দোলন মোকাবিলায় কোন পথে এগোবে ক্ষমতাসীনরা সেটিও এখন সামনে এসেছে। একই সঙ্গে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করা না করার বিষয়টিও ভাবিয়ে তুলেছে আওয়ামী লীগকে। সব মিলিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি।
সম্প্রতি এক সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিশ্ব রাজনীতিতে নানা খেলা চলছে। সামনে নির্বাচন। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ফলে সামনের দিনগুলোতে অনেক চ্যালেঞ্জ আসবে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে শুরু করে মহানগর, থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিটের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার কোনো বিকল্প নেই। দেশকে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ধারায় টিকিয়ে রাখা আওয়ামী লীগের চ্যালেঞ্জ।
সম্প্রতি গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আজমত উল্লা খানকে দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন বহিষ্কৃত মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। অবশ্য জাহাঙ্গীর আলমের প্রার্থিতা বাতিল হলেও বৈধ হয় তার মা জায়েদা খাতুনের প্রার্থিতা। প্রাণপণ চেষ্টা করেও গাজীপুর সিটিকে হাতের মুঠোয় নিতে পারেনি দলটি। অবশেষে আজমত উল্লা খানকে পেছনে ফেলে মেয়র নির্বাচিত হন জায়েদা খাতুন। এখন দলটির জন্য আরেকটি চ্যালেঞ্জ আসন্ন সিলেট, বরিশাল, খুলনা ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন। যদিও দলটি বলছে, আসন্ন চার সিটি নির্বাচনে গাজীপুর সিটিতে নৌকার পরাজয়ের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নির্বাচনি ফল ঘরে তুলবে আওয়ামী লীগ। বিএনপি নির্বাচনে না এলেও অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আওয়ামী লীগবিরোধী ভোট নিয়ে শঙ্কা রয়েছে বরিশাল সিটিতে। নতুন প্রার্থী দেওয়ার কারণে কঠোর দৃষ্টি রয়েছে সিলেটে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষ না থাকায় নির্ভার রয়েছে খুলনা ও রাজশাহী সিটিতে। তারপরও চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে দলটি। খুলনা ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন ১২ জুন এবং রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশনে হবে ২১ জুন। ফলে এখন এই চার সিটিতে জয় নিশ্চিত করা আওয়ামী লীগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও গাজীপুরে নৌকার ভরাডুবির পরও সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট উপহার দিয়েছে এমন তৃপ্তির ঢেকুর তুলছে আওয়ামী লীগ।
অন্যদিকে গত ২৪ মে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি জে ব্লিঙ্কেন এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী বা জড়িত বলে মনে করা যেকোনো বাংলাদেশি ব্যক্তির জন্য ভিসা প্রদানে বিধিনিষেধ আরোপে সক্ষম হবে।
এর মধ্যে বর্তমান ও সাবেক বাংলাদেশি কর্মকর্তা বা কর্মচারী, সরকার সমর্থক ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্য এবং আইন প্রয়োগকারী, বিচার বিভাগ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে এমন কাজের মধ্যে রয়েছে-ভোট কারচুপি, ভোটারদের ভয় দেখানো, সহিংসতার মাধ্যমে জনগণকে সংগঠিত হওয়ার স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার প্রয়োগ করতে বাধা দেওয়া এবং বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক দল, ভোটার, সুশীল সমাজ বা গণমাধ্যমকে তাদের মতামত প্রচার করা থেকে বিরত রাখা। ফলে এটি এখন ক্ষমতাসীন দলের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে।
যদিও দলটি বলছে, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র আছে, থাকবে। কিন্তু সামনে যত চ্যালেঞ্জই আসুক আওয়ামী লীগ এগিয়ে যাবে। পাশাপাশি সরকার পতনসহ বিএনপির ১০ দফা আন্দোলন নিয়েও চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে ক্ষমতাসীনরা। তবে বিএনপি বলছে, এখন আর ১০ দফা নয়, এখন সরকার পতনের এক দফা আন্দোলন।
এ নিয়ে আওয়ামী লীগ চিন্তিত থাকলেও দলটি বলছে, তারা বিএনপির আন্দোলন নিয়ে ভীত নয়। জাতীয় নির্বাচনের আগে বিরোধী পক্ষের আন্দোলন মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে আওয়ামী লীগ। পরিস্থিতি অনুকূলে রাখতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে থাকার কথা ভাবছে ক্ষমতাসীনরা। বিএনপির আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করা হবে। যেখানে বিএনপি সহিংসতা করবে, সেখানে প্রতিহত করা হবে।
এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এই চ্যালেঞ্জ শেষ পর্যন্ত কতটুকু ধোপে টিকবে। দলটি সরকারে থাকার কারণে তারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে যেতে চায় না। এরই অংশ হিসেবে নির্বাচন পর্যন্ত নানা কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে সরব থাকবে দল ও সহযোগী সংগঠন। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নজরদারি রাখতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপ করবে কি করবে না তা নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। কারণ বিএনপি দাবি করেছে, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপ করে কোনো ফল হয়নি। ফলে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সংলাপ করে কোনো ফল আসবে না। তাই এখন এই সরকারের পতন ছাড়া কোনো কিছু ভাবছে না, বিরোধী দল বিএনপি। এই সরকারের অধীনে তারা নির্বাচনে যাবে না।
অন্যদিকে ক্ষমতাসীনরাও বলছে, কিসের সংলাপ। কার সঙ্গে সংলাপ। যারা সংসদে নেই তাদের সঙ্গে সংলাপের প্রশ্নই আসে না। অবশ্য আওয়ামী লীগ বলছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে ভিসানীতি দিয়েছে, তাতে বিএনপি নির্বাচনে না এসে সন্ত্রাসের পথ বেছে নিলে তারা এই ভিসানীতির আওতায় আসবে। ফলে উভয়পক্ষ একমত না হলে সংলাপের দ্বার খুলছে না। তাই সংলাপ ছাড়া বিএনপিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধ্য করা আওয়ামী লীগের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে হাজির হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, গাজীপুর সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয় হলেও গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে আবারও প্রমাণিত। নির্বাচনে হার-জিত থাকবেই। বাকি যে চারটি সিটিতে ভোট হবে, সেখানে আমাদের নেতাকর্মীরা সজাগ থাকবে। আশা করি, এখানেও অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থীরাই বিজয়ী হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে ভিসানীতি দিয়েছে, এতে আওয়ামী লীগ বিচলিত নয়। বরং যারা নির্বাচন বানচাল, ভোটে বাধা দিতে চায় তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফলে যারা ভিসানীতিতে উৎফুল্ল তারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিএনপির এক দফা আন্দোলন মোকাবিলায় আমাদের নেতাকর্মীরা মাঠে আছে। আগামী নির্বাচন পর্যন্ত মাঠে থাকবে। তারা কোনো সহিংসতা করলে নেতাকর্মীরা জবাব দেবে। আর বিএনপির সঙ্গে সংলাপের প্রশ্নই আসে না। কারণ সংবিধানে স্পষ্টত বলা আছে, প্রধানমন্ত্রীর অধীনেই নির্বাচন হবে। ফলে কারও সঙ্গে আলোচনার প্রশ্ন উঠে না। তবে আগামী নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করবে।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্ল্যাহ সময়ের আলোকে বলেন, গাজীপুর সিটি নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তবে এখানে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হয়েছে। এখন যে চারটি সিটিতে ভোট হবে, গাজীপুর থেকে শিক্ষা নিয়ে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, মার্কিন ভিসানীতি নিয়ে আওয়ামী লীগ কিছু ভাবছে না। কারণ আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চায়। ফলে যারা নির্বাচন ভণ্ডুল করতে চায়, দেশে সংঘাত, জঙ্গিবাদ করতে চায়, তারাই মার্কিন ভিসানীতির আওতায় আসবে। আর বিএনপির সঙ্গে সংলাপ হবে কেন? তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বলছে। যা আদালতের রায়ে মীমাংসা হয়ে গেছে। এখন সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন হবে। ফলে তাদের সঙ্গে কোনো সংলাপ নয়। তারা যে আন্দোলনের কথা বলছে, আসলে তাদের সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আর তারা যদি আন্দোলনের নামে সংঘাত করতে চায়। আমাদের নেতাকর্মীরা আছে, তাদের সমুচিত জবাব দেবে।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল সময়ের আলোকে বলেন, গাজীপুর সিটি নির্বাচনে আমাদের আশার প্রতিফলন হয়নি। তবে আগামী চার সিটি নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে আমরা বিষয়গুলো চিহ্নিত করে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াব। গাজীপুরে যেসব সমস্যা হয়েছে, সেগুলো নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদেরও নির্দেশনা দেওয়া হবে। আশা করছি, চার সিটিতে কোনো সমস্যা হবে না। আর মার্কিন ভিসানীতি নিয়ে আওয়ামী লীগ কিছু ভাবছে না। আমরা তো অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। ফলে যারা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবে, নির্বাচন বর্জন করে সহিংসতা করবে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি বিএনপি যে সরকার পতনের আন্দোলনের কথা বলছে, সেটি মোকাবিলায় কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া আছে। আমাদের নেতাকর্মীরা মাঠে সরব থাকবে। তাদের যেকোনো সহিংসতা মাঠে থেকে প্রতিহত করা হবে। আর সংলাপের পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি। এই পরিবেশ বিএনপিকেই তৈরি করতে হবে। তারা যদি সেটি তৈরি করে, সে ক্ষেত্রে দেখা যাবে। তবে সামনে যেহেতু দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, তাই আওয়ামী লীগের জন্য প্রতিটি বিষয়ই চ্যালেঞ্জ। আর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই আওয়ামী লীগ আগামীতে ক্ষমতায় আসবে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির সময়ের আলোকে বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে চাই না। তারপরেও আমার বক্তব্য হলো-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে ভিসানীতি দিয়েছে, এর সমাধান কিন্তু আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকেই করতে হবে। এটা শুধু আওয়ামী লীগের জন্যই চ্যালেঞ্জ নয়। দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলেরই চ্যালেঞ্জ। কারণ দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার প্রধান দায়িত্ব সরকারি দলের। এরপর যারা বিরোধীদলে থাকবে তারাও কিন্তু দায়িত্বের বাইরে নন। ফলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার শফিকুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, গাজীপুরে সিটি নির্বাচনে বিএনপি বা তাদের জোটের কোনো প্রার্থী ছিল না। ফলে আওয়ামী লীগেরই সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মা সহজে জয় পেয়েছেন। আসলে তার মা নন, মূলত তিনিই জিতেছেন। ফলে এটি দিয়ে অন্য সিটির হিসাব করলে হবে না। তাই আরও যে চার সিটি নির্বাচন আছে, সেগুলো আওয়ামী লীগের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। আর মার্কিন ভিসানীতির ফাঁদে তারাই পড়বে, যারা গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখবে না। ফলে গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে পারলে আওয়ামী লীগের জন্য এটি চ্যালেঞ্জ হবে না। তাই এ ক্ষেত্রে তাদের আরও দৃষ্টি দিতে হবে।
শফিকুল ইসলাম বলেন, গণতান্ত্রকে সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে সংলাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গণতন্ত্র না থাকা একটি দেশের জন্য সুখকর নয়। নির্বাচনের জন্যও সুখকর নয়। এখন বিএনপিকে নির্বাচনে আনা আওয়ামী লীগের জন্য চ্যালেঞ্জ। সে ক্ষেত্রে বিএনপির সঙ্গে অবশ্যই সংলাপ করা প্রয়োজন। এটি বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বেশি হওয়ার কথা। আর আন্দোলন হলো একটি রাজনৈতিক দলের জন্য মূল খাবার। কারণ বিগত দিনে এ দেশে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সব গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে বিএনপির আন্দোলন মোকাবিলা নয়, তারা কী চায়, তাদের সঙ্গে বসে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করাই হবে আওয়ামী লীগের জন্য উত্তম।
এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার সময়ের আলোকে বলেন, আসলে আওয়ামী লীগ কোনো কিছুই নিজেদের জন্য চ্যালেঞ্জ মনে করে না। তারা মনে করে, আওয়ামী লীগ ছাড়া দেশের সবাই বোকা। গাজীপুর সিটি নির্বাচনে যে বার্তা পেয়েছে, এরপর আর কিছু লাগে না। কিন্তু তারা বলছে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। তবে আগামী চার সিটি নির্বাচনের মধ্যে বরিশালে তাদের নিজেদের মধ্যে একটু ঝামেলা আছে, এর বাইরে খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটে তেমন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। ফলে চার সিটিতে তাদের জন্য কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। তিনি বলেন, সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিসানীতি দিয়েছে, এর দায় মূলত সরকারি দলের। তবে শুধু সরকারি দলকে দুষলেই হবে না। দেশের সব রাজনৈতিক দলেরই দায়বদ্ধতা রয়েছে।